এই গ্রহাণুটির পৃষ্ঠের কিছু অংশ এত মসৃণ কেন?
এর উত্তরটি সম্ভবত গ্রহাণুটি একটি নিরেট পাথর নয়, বরং আলগা ধ্বংসস্তূপের স্তূপাকারে থাকা গ্রহাণুর কাঠামোগত গতিশীলতার সাথে জড়িত। ২০০৫ সালে জাপানি মহাকাশযান ‘হায়াবুসা’ এই অস্বাভাবিক গ্রহাণু ‘ইটোকাওয়া’-তে গিয়েছিল। মহাকাশযানটি এর অদ্ভুত গঠন এবং গর্ত বা ক্রেটারের না থাকার ছবি তুলেছিল। মসৃণ এবং এবড়োখেবড়ো অংশের মধ্যবর্তী সীমানা অঞ্চলগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, গ্রহাণুটির নিজস্ব ঝাঁকুনির ফলেই হয়তো এর পৃষ্ঠের কাছাকাছি বড় এবং ছোট পাথরগুলো আলাদা হয়ে যাচ্ছে, যা অনেকটা ‘ব্রাজিল নাট ইফেক্ট’-এর মতো (প্রসঙ্গগত বলে রাখা ভালো, ‘ব্রাজিল নাট ইফেক্ট’ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে বিভিন্ন আকারের বস্তুর মিশ্রণকে ঝাঁকালে বড় বস্তুগুলো ওপরের দিকে উঠে আসে এবং ছোট বস্তুগুলো ফাঁক গলে নিচে চলে যায়)।
রোবটিক মহাকাশযান হায়াবুসা মূলত ‘মিউজেস সি’ নামের একটি মসৃণ সমতল অংশে অবতরণ করেছিল এবং সেখান থেকে গ্রহাণুটির মাটির নমুনা সংগ্রহ করেছিল। এই নমুনাগুলো পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। সেগুলো যে কেবল এই অস্বাভাবিক গ্রহাণুর প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কেই ধারণা দিচ্ছে তা নয়, বরং আমাদের সমগ্র সৌরজগতের আদি অবস্থার সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে। কম্পিউটার সিমুলেশন থেকে দেখা যায় যে, ৫০০ মিটার আকৃতির এই ইটোকাওয়া গ্রহাণুটি আগামী কয়েক মিলিয়ন বছরের মধ্যে পৃথিবীতে আঘাত হানতে পারে।
——————————————————–
This material is translated from Astronomy Picture of the Day(APOD).
Image Credit & Copyright: JAXA, ISAS
Translated by: Sirius Translators, NOC-Bangladesh Office, IAU Office for Astronomy Outreach.




