
১৭১৬ সালে ইংরেজ জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি লিখেছিলেন, “এটি শুধুমাত্র একটি ছোট্ট দাগ হলেও চাঁদ শূন্য পরিষ্কার আকাশে এটিকে খালি চোখেই দেখা যায়।”
তবে, বর্তমানে M13 আর আগের মতো এমন সাধারণভাবে পরিচিত নয়, বরং এটি এখন উত্তর আকাশের অন্যতম উজ্জ্বল ও গোলাকার হারকিউলিস নক্ষত্রমণ্ডলের ‘গ্রেট গ্লোবুলার ক্লাস্টার’ নামে পরিচিত। এবং এমন সুস্পষ্ট দূর মহাকাশের চিত্রে এই বিস্ময়কর নক্ষত্রগুচ্ছের লক্ষাধিক নক্ষত্র উম্মোচিত হয়।
পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫,০০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই নক্ষত্রগুচ্ছের নক্ষত্রগুলো প্রায় ১৫০ আলোকবর্ষ ব্যাসার্ধের এক অঞ্চলের মধ্যে ভিড় করে রয়েছে। গুচ্ছের কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হলে দেখা যায়, মাত্র ৩ আলোকবর্ষ দৈর্ঘ্যের এক ঘনক অঞ্চলের ভেতরেই প্রায় ১০০-এরও বেশি নক্ষত্র অবস্থান করছে। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে আমাদের প্রতিবেশি নক্ষত্রদের সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, সূর্যের নিকটতম নক্ষত্রটি ৪ আলোকবর্ষেরও বেশি দূরে অবস্থিত।
প্রাচীন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গ্রেট গ্লোবুলার ক্লাস্টার পর্যবেক্ষন করতে গিয়ে লক্ষ্য করেছিলেন প্রায় নক্ষত্রগুচ্ছটির কেন্দ্রের ঠিক নিচে প্রায় ১২০ ডিগ্রি ব্যবধানে তিনটি অন্ধকার রেখা এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছে বলে মনে হয়। M13-এ প্রপেলার নামে পরিচিত এই আকৃতিটি প্রকৃত কোনো গঠন নয়, বরং এটি একটি কাকতালীয় অপটিক্যাল প্রভাব যা আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে ঘন নক্ষত্রগুচ্ছের কেন্দ্রের নক্ষত্রবিন্যাসের ফলে দেখা যায়।
—————————————————-
This material is translated from Astronomy Picture of the Day (APOD) published by NASA.
Original text and editing: Robert Nemiroff (MTU) & Jerry Bonnell (UMCP)
Translated by: Sirius Translators, NOC-Bangladesh Office, IAU Office for Astronomy Outreach




