শনি ও নেপচুন গ্রহ রেট্রোগ্রেড অবস্থায় থাকার মানে আসলে কী? ২০২৫ সালের মে মাস থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৪ রাতের তোলা ছবির সমন্বয়ে তৈরি ছবিটিতে শনি (সামনের দিকে, তুলনামূলক উজ্জ্বল) এবং নেপচুনের (পেছনের দিকে, কিছুটা অনুজ্জ্বল) গতিপথ তুলে ধরা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে গ্রহ দুটি রেট্রোগ্রেড মোশন প্রদর্শন করেছিল। যার মানে হলো আকাশে এদেরকে বিপরীত দিকে চলতে দেখা যাচ্ছিল। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় পৃথিবী যখন অপেক্ষাকৃত ধীর গতির দূরের গ্রহগুলোকে অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যায়, ঠিক তখনই এই পেছনের দিকে যাওয়ার ঘটনাটি ঘটে।
কল্পনা করি, আমাদের সৌরজগৎ হলো একটি রানিং ট্র্যাক। বাইরের দিকের গ্রহগুলোর তুলনায় পৃথিবী এই ট্র্যাকের ভেতরের দিক দিয়ে বেশ দ্রুতগতিতে “দৌড়ায়”। পৃথিবী যখন দূরের এই গ্রহগুলোর কাছাকাছি পৌঁছায়, এক সারিতে আসে এবং এরপর তাদের টপকে বা “ল্যাপ” করে সামনে চলে যায়, তখন পৃথিবীর থেকে মনে হয় যেন গ্রহগুলো সামনের দিক থেকে পেছনের দিকে সরে যাচ্ছে। দৃষ্টিকোণের এই পরিবর্তনের কারণেই রাতের আকাশে বাইরের গ্রহগুলোকে নিজেদের অবস্থান বদলাতে দেখা যায়।
ওপরের ছবিতে উত্তর গোলার্ধের রাতের আকাশ জুড়ে শনি ও নেপচুনের মাসব্যাপী এই নৃত্য দেখানো হয়েছে। এই সময়ে শনি মীন রাশিমণ্ডল থেকে কুম্ভ রাশিমণ্ডল এ গিয়ে আবার আগের জায়গায় ফিরে আসে। অন্যদিকে নেপচুন মীন রাশিমণ্ডলেই অবস্থান করছিল। ১৯৮৯ সালের সর্বশেষ সংযোগ বা কনজাংশনের পর থেকে শনি এবং নেপচুন আকাশের বুকে আর কখনোই এতটা কাছাকাছি আসেনি।
——————————————————-
This material is translated from Astronomy Picture of the Day (APOD).
Image Credit & Copyright: Tunç Tezel (TWAN)
Translated by: Sirius Translators, NOC-Bangladesh Office, IAU Office for Astronomy Outreach.



