এটি ছিল আমাদের সৌরজগতের ইতিহাসে রেকর্ডকৃত সবচেয়ে বড় এবং দীর্ঘস্থায়ী ঝড়গুলোর একটি। প্রথম দেখা যায় ২০১০ সালের শেষের দিকে, যখন শনির উত্তর গোলার্ধে বিশাল মেঘমালা গঠিত হতে শুরু করে। শুরুতে এর পরিধি ছিল পৃথিবীর চেয়েও বড়, আর অল্প সময়ের মধ্যেই এটি পুরো গ্রহজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঝড়টি শুধু পৃথিবী থেকেই নয় বরং শনির কক্ষপথে ঘুরতে থাকা রোবটিক মহাকাশযান ক্যাসিনি থেকেও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। এখানে প্রদর্শিত ছবিটি অবলোহিত (infrared) আলোর ছদ্ম-রঙিন (false-colored) চিত্র, যা তোলা হয়েছিল ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ছবিতে কমলা রঙ নির্দেশ করছে বায়ুমণ্ডলের গভীরের মেঘগুলোকে, আর উজ্জ্বল রঙ দেখাচ্ছে আরও উচ্চস্তরের মেঘমালা।
শনির বলয়গুলো প্রায় পাশ থেকে দেখা যাচ্ছে, তাই তা একটানা নীলচে আনুভূমিক রেখার মতো মনে হচ্ছে। শনির উপরে দেখা বাঁকানো অন্ধকার ব্যান্ডগুলো আসলে ওই বলয়গুলোর ছায়া। সূর্যের আলো শনির বলয়ে পড়ে নিচের মেঘের উপর যে ছায়া তৈরি করেছে, সেটিই এই দৃশ্যে ধরা পড়েছে।
শনির এই প্রবল ঝড় ও বজ্রপাতে সৃষ্ট তীব্র রেডিও সংকেত বিজ্ঞানীদের মতে এই গ্রহের ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত, বিশেষ করে যখন শনির উত্তর গোলার্ধে বসন্তের আগমন ঘটে। প্রায় ছয় মাস ধরে দাপিয়ে বেড়ানোর পর এই প্রতীকী ঝড়টি পুরো গ্রহ প্রদক্ষিণ করে নিজেরই লেজের সঙ্গে মিলিত হওয়ার চেষ্টা করে, আর সেই সংঘাতেই, ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যায় এই মহাজাগতিক ঝড়।
This material is translated from Astronomy Picture of the Day (APOD) published by NASA.
Image Credit: NASA, JPL, ESA, Cassini Imaging Team, SSI
Original text and editing: Robert Nemiroff (MTU) & Jerry Bonnell (UMCP)
Translated by: Sirius Translators, NOC-Bangladesh Office, IAU Office for Astronomy Outreach



