
স্পেনের একটি শান্ত তৃণভূমিতে একাকী একটি গাছ দাঁড়িয়ে আছে। তার পেছনে রাতের আকাশে আগুনের শিখার মতো ভেসে উঠেছে সিগনাস (Cygnus) নক্ষত্রমণ্ডল।
এই ছবিটি একাধিক এক্সপোজার মিলিয়ে তৈরি, ফলে আকাশের এমন অনেক সূক্ষ্ম আলো ও রং ধরা পড়েছে যা আমাদের চোখে সাধারণত দেখা যায় না।
সিগনাস আকাশের একটি বিশাল অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত—পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও হাজার গুণ বড়। এখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন নক্ষত্রের জন্ম হচ্ছে। গ্যাস ও ধূলিকণার মেঘ নিজের মাধ্যাকর্ষণে সংকুচিত হয়ে যখন অত্যন্ত গরম হয়ে ওঠে, তখন নিউক্লিয়ার ফিউশন শুরু হয়—আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় নতুন তারা।
এই নবজাত তারাগুলো আশেপাশের হাইড্রোজেন গ্যাসকে উত্তেজিত করে, ফলে তা লালচে আলো ছড়ায়। অন্যদিকে, কিছু ধূলিকণা সেই আলোকে আংশিকভাবে আটকায়, যার কারণে আকাশে অন্ধকার ছায়ার মতো অংশ দেখা যায়।
সিগনাস নক্ষত্রমণ্ডল জ্যোতির্বিজ্ঞানের অনেক বিস্ময় লুকিয়ে রেখেছে। এখানে রয়েছে ভেইল নেবুলা, ক্রিসেন্ট নেবুলা, পেলিকান নেবুলা এবং সিগনাস X-1—যা প্রথম প্রমাণিত ব্ল্যাক হোল।
এখনও এই অঞ্চলে গবেষণা চলছে। সম্প্রতি, চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরির সাহায্যে বিজ্ঞানীরা সিগনাস লুপের একটি ত্রিমাত্রিক (3D) মডেল তৈরি করেছেন।
সহজভাবে বলতে গেলে, সিগনাস হলো আকাশের এক বিশাল তারার কারখানা—যেখানে নতুন তারা জন্ম নেয়, আলো ছড়ায়, আর মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচিত হয়।
This material is translated from Astronomy Picture of the Day (APOD) published by NASA.
Image Credit & Copyright: 2025 Horacio Lander / AstroHoracio Text: Keighley Rockcliffe (NASA GSFC, UMBC CSST, CRESST II)
Translated by: Sirius Translators, NOC-Bangladesh Office, IAU Office for Astronomy Outreach.



