ওপরের মহাকাশের ছবিটিতে আকাশে অনেক ওপরে থাকা সিগনাস (রাজহাঁস) নক্ষত্রমণ্ডলীর সীমানার ভেতরের পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও দ্বিগুণের বেশি চওড়া একটি দৃশ্যপটকে দেখা যাচ্ছে। ন্যারোব্যান্ড ফিল্টার ব্যবহার করে তৈরি করা এই ছবিটিতে আয়নিত হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাসের আভায় ভেসে ওঠা একটি আংটির মতো নেবুলার উজ্জ্বল প্রান্তকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। এই অঞ্চলের সুবিশাল মহাজাগতিক মেঘের মাঝে ডুবে থাকা জটিল ও উজ্জ্বল এই বৃত্তচাপ আকৃতিগুলো মূলত ছবির একেবারে মাঝখানের উজ্জ্বল নক্ষত্র উলফ-র্যায়েট তারকা ‘ডব্লিউআর ১৩৪’ থেকে ধেয়ে আসা নাক্ষত্রিক বাতাসের ভেসে আসা পদার্থের খোলসেরই কিছু অংশ।
ডব্লিউআর ১৩৪ প্রায় ৬,০০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। যার মানে হলো ওপরের ফ্রেমের এই ছবিটি লম্বায় ১০০ আলোকবর্ষেরও বেশি জায়গা জুড়ে রয়েছে। প্রচণ্ড শক্তিশালী নাক্ষত্রিক বাতাসে নিজেদের বাইরের আবরণ ঝরিয়ে ফেলে বিশালাকার এই উলফ-র্যায়েট নক্ষত্রগুলো অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে তাদের পারমাণবিক জ্বালানি পুড়িয়ে শেষ করে এবং ভারী নক্ষত্রদের বিবর্তনের চূড়ান্ত পর্যায় হিসেবে এক নজরকাড়া সুপারনোভা বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিজেদের ইতি টানে। এদের এই নাক্ষত্রিক বাতাস এবং চূড়ান্ত সুপারনোভা বিস্ফোরণ মহাকাশে এমন সব ভারী মৌল দিয়ে সমৃদ্ধ করে, যা ভবিষ্যতে জন্ম নিতে যাওয়া নতুন প্রজন্মের নক্ষত্রগুলোর ভেতরে মিশে যায়।
——————————————
This material is translated from Astronomy Picture of the Day(APOD).
Image Credit & Copyright: Luigi Morrone and Telescope Live
Translated by: Sirius Translators, NOC-Bangladesh Office, IAU Office for Astronomy Outreach.


