আপনি যদি রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে একটি তারকাগুচ্ছ দেখতে পান যেটি আকাশে প্রায় একটি পূর্ণিমার চাঁদের আকারের জায়গা দখল করে আছে, তবে সেটিই কৃত্তিকা।
এর আন্তর্জাতিক নাম প্লিইয়েডেস (Pleiades) বা মেসিয়ার ৪৫ (M45)। এটি আকাশের সবচেয়ে বিখ্যাত তারামণ্ডলগুলোর একটি, এবং এর উজ্জ্বলতম নক্ষত্রগুলো আলোকদূষিত শহর থেকেও খালি চোখে দেখা যায়। তবে আলোকদূষণ মুক্ত রাতের আকাশে কৃত্তিকার গ্যাস ও ধুলোর মেঘ খালি চোখেই ধরা পড়ে।
তবে টেলিস্কোপের মাধ্যমে আরও অনেক বেশি কিছু ধরা পড়ে। কৃত্তিকার উজ্জ্বল নীল নক্ষত্রগুলো—যা সেভেন সিস্টার্স নামেও পরিচিত— এদের আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধুলোর মেঘকে আলোকিত করতে দেখা যায়। এর ফলে ঐ অঞ্চল লং এক্সপোজার ছবিতে বিকীর্ণ নীল রঙে দেখা যায়।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। কৃত্তিকার এই মহাজাগতিক ধুলোর মেঘ উপরের দিকে প্রসারিত হয়ে যেন এক স্বর্গীয় বাহুর ন্যায় আকার নিয়েছে। আর পুরো গঠনটি ঘিরে রয়েছে এক ধরনের লালচে আভা, যা সৃষ্টি করেছে মহাবিশ্বের সবচেয়ে প্রাচুর্যময় উপাদান—হাইড্রোজেন।
এই প্রচ্ছদ ছবিটি তৈরি করা হয়েছে প্রায় ২৫ ঘণ্টা সময় ধরে কৃত্তিকা থেকে আসা আলো নিয়ে এবং এটি ধারন করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস শহরের স্টারফ্রন্ট মানমন্দির থেকে।




Leave a Reply