শেষ হলো “জাতীয় অ্যাস্ট্রোফোটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা অ্যাস্ট্রোলেন্স ১.০

অ্যাস্ট্রোফোটোগ্রাফি শুধুমাত্র রাতের আকাশের নীহারিকা-নক্ষেত্রের ছবি তোলাই নয়, বরং মহাবিশ্বকে কাছে থেকে দেখা। সাধারণ মানুষকে অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফির মাধ্যমে জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিকাল ইউনিয়নের (আইএইউ) ন্যাশনাল আউটরীচ কোঅর্ডিনেটর, বাংলাদেশ (নক-বিডি) অফিস প্রথমবারের মত আয়োজনটি করে ASTROLENS 1.0 – Bangladesh’s First National Astrophotography Contest

এক মাসব্যাপী আয়োজিত এই অনলাইন প্রতিযোগিতাটিতে বাংলাদেশিদের তোলা অ্যাস্ট্রোফোটোগ্রাফি সংগ্রহ করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগই ছিলেন বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

এ প্রতিযোগিতায় প্রফেশনাল এবং অ্যামেচার– এ দুটি ক্যাটাগরিতে পৃথকভাবে ছবি জমাদানের সুযোগ ছিল। এর ফলে পেশাদার সরঞ্জাম ব্যবহার করে পাওয়া ছবির পাশাপাশি সাধারণ ক্যামেরা ও স্মার্টফোন দিয়ে তোলা অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফিও একই সাথে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ পায়।

গত ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু করে মাসব্যাপী চলমান এই প্রতিযোগিতায় অ্যাস্ট্রোলেন্স টিমের কাছে জমা হয় প্রায় অর্ধশতাধিক ছবি। পরবর্তীতে অভিজ্ঞ বিচারক প্যানেলের মাধ্যমে দুটি রাউন্ডে বাছাই করে দুই ক্যাটাগরিতে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিজয়ীদের নাম ঘোষণার পাশাপাশি মুহাম্মদ মিনহাজের পরিচালনায় আলোকদূষণ ও অন্ধকার আকাশ বিষয়ে সচেতনতা নিয়ে ছিল একটি আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন। এতে বিচারক প্যানেল থেকে অতিথি হিসেবে ছিলেন জনপ্রিয় অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফার কবীর জামি এবং জুবায়ের কাওলিন। এতে প্রতিযোগী, আয়োজকসহ নক-বিডি টিমের স্বেচ্ছাসেবকরা অংশ নেন। উপস্থিত কবীর জামি তার বক্তব্যে প্রতিযোগী ও আয়োজকদের অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফিতে বিভিন্ন বিবেচ্য বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেন এবং দিকনির্দেশনা দেন।

See: ASTROLENS 1.0 Winners Gallery

এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতাই নয়, বরং এ আয়োজন পর্যবেক্ষণমূলক জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চার বর্তমান পরিসর এবং বাংলাদেশে জ্যোতির্বিজ্ঞানের সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে। অ্যাস্ট্রোলেন্স ১.০ দেশের জ্যোতির্বিজ্ঞানা আগ্রহী শিক্ষার্থী ও ফটোগ্রাফেরদের মাঝে সাড়া ফেলেছে। এই প্রচার ও প্রসারের কাজ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশও উন্নত বিশ্বের সাথে জ্যোতির্বিজ্ঞানে সমান অবদান রাখতে পারবে বলে আয়োজকদের বিশ্বাস।

আয়োজনে নক-বিডির মূল সহযোগী ছিল যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাল নজরুল ইসলাম অ্যাস্ট্রোনমি ক্লাব। এছাড়াও সহ-আয়োজক হিসেবে ভূমিকায় ছিল বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটি। ক্লাব পার্টনার হিসেবে ছিল আইইউটি আল-ফাযারি ইন্টারস্টেলার সোসাইটি, চট্টগ্রাম অ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটি, সিইউ সায়েন্টিফিক সোসাইটি, অ্যাসরো-চুয়েট, কোপার্নিকাস অ্যাস্ট্রোনমিকাল মেমোরিয়াল অব সাস্ট (ক্যাম-সাস্ট), জাস্ট ফটোগ্রাফি সোসাইটি এবং বিজ্ঞান সংগঠন ট্যাকিয়ন