মিরান্ডা আসলে দেখতে কেমন? দৃশ্যত, নাসার ভয়েজার ২-এর তোলা পুরনো ছবিগুলোকে সম্প্রতি নতুনভাবে স্ট্যাক করার মাধ্যমে ইউরেনাসের ৫০০-কিলোমিটার চওড়া এই উপগ্রহের ছবিটি তৈরি করা হয়েছে। ১৯৮০-র দশকের শেষের দিকের কথা। নাসার মহাকাশযান, ভয়েজার ২ যখন ইউরেনাসের পাশ দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল, তখন সেটি শেক্সপিয়রের ‘দ্য টেম্পেস্ট’ নাটকের একটি চরিত্রের নামে নামাঙ্কিত গর্তবহুল, ফাটলযুক্ত এবং অস্বাভাবিক খাঁজকাটাময় উপগ্রহটির খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল (ইংরেজ নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়রের লেখা একটি বিখ্যাত নাটক। ইউরেনাসের উপগ্রহগুলোর নামকরণের একটি বিশেষ রীতি আছে, বেশিরভাগ উপগ্রহের নাম শেক্সপিয়র বা আলেকজান্ডার পোপের সাহিত্যকর্মের চরিত্রদের নামে রাখা হয়। ‘মিরান্ডা’ সেই নাটকেরই একটি প্রধান চরিত্র।)।
বিজ্ঞানীরা এখন সেই পুরনো তথ্য আর নতুন এই পরিষ্কার ছবিগুলো ব্যবহার করে মিরান্ডার এই রুক্ষ পৃষ্ঠতলের বৈশিষ্ট্যগুলো আসলে কীসের প্রভাবে তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে তত্ত্ব প্রদান করছেন। একটি প্রধান তত্ত্ব হলো যে, মিরান্ডার বরফাবৃত পৃষ্ঠের নিচে হয়তো একসময় বিশাল এক তরল জলের সাগর ছিল, যা সম্ভবত ধীরে ধীরে জমে যাচ্ছে। ভয়েজার ২-এর রেখে যাওয়া এই অবদানের সুবাদে, আমাদের সৌরজগতে পানি এবং সম্ভবত অণুজীব প্রাণের সন্ধানে মিরান্ডাও এখন ইউরোপা, টাইটান এবং অন্যান্য বরফশীতল উপগ্রহগুলোর দলে যোগ দিয়েছে। উল্লেখ্য, ইউরোপা হলো বৃহস্পতি গ্রহের এবং টাইটান হলো শনি গ্রহের চাঁদ। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই উপগ্রহগুলোর বরফের নিচে বিশাল সমুদ্র আছে যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব। মিরান্ডাকেও এখন সেই একই সম্ভাবনাময় তালিকায় রাখা হচ্ছে।
———————————————————————————————–
This material is translated from Astronomy Picture of the Day (APOD) published by NASA.
Image Credit: NASA, JPL, Voyager 2;
Processing & License: Flickr: zelario12;
Text: Keighley Rockcliffe (NASA GSFC, UMBC CSST, CRESST II)
Translated by: Sirius Translators, NOC-Bangladesh Office, IAU Office for Astronomy Outreach.
#siriustranslators



