গত ৯–১১ এপ্রিল বান্দরবান কালেক্টরেট স্কুলে অনুষ্ঠিত হয়েছে The International Astronomical Union-এর Office of Astronomy for Education কোঅর্ডিনেটর-বাংলাদেশ টিম প্রযোজিত “আইএইউ–ওএই টিচার ট্রেনিং প্রোগ্রাম–২০২৬”।
দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এনসিটিবি পাঠ্যক্রমভিত্তিক বিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। কর্মশালার সহকারী আয়োজক হিসেবে ছিল Bangladesh Astronomical Society এবং ন্যাশনাল আউটরিচ কোঅর্ডিনেটর-বাংলাদেশ টিম।

আয়োজনের সূচনা হয় বান্দরবান জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি অবহিতকরণ সভার মাধ্যমে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী (অধ্যাপক, তড়িৎকৌশল বিভাগ, বুয়েট) এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. উজ্জ্বল কুমার দেব (অধ্যাপক, গণিত বিভাগ, চুয়েট)। সভায় সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক জনাব মো. সানিউল ফেরদৌস।

প্রথম দিনের কার্যক্রম শুরু হয় ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী কী-নোট বক্তব্যের মাধ্যমে, যেখানে তিনি সহজ ভাষায় হাতে-কলমে বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরবর্তীতে ভলান্টিয়াররা বিভিন্ন শ্রেণির বিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানের বিষয়সমূহ ব্যবহারিক উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রদর্শন করেন এবং শিক্ষকরা সক্রিয়ভাবে এতে অংশগ্রহণ করেন।
“বুকপকেটে সৌরজগৎ”, “টেনিস বলে চন্দ্রগ্রহণ”, “প্রস্থর যুগের সৌর ঘড়ি”, “কাপড়ের মাঝে মহাকর্ষ”সহ ধূমকেতু, ঋতু পরিবর্তন, অরোরা প্রভৃতি মহাজাগতিক ঘটনা এবং মহাবিশ্বের দূরত্ব সম্পর্কিত বিভিন্ন আকর্ষণীয় হ্যান্ডস-অন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাশাপাশি খালি চোখে ও স্টেলারিয়ামের সহায়তায় নক্ষত্রপুঞ্জ শনাক্তকরণ এবং নীলাচলে সেলেস্ট্রন অ্যাস্ট্রোমাস্টার ১৩০ ইকিউ টেলিস্কোপের মাধ্যমে বৃহস্পতি ও তার চারটি উপগ্রহ পর্যবেক্ষণের সুযোগও প্রদান করা হয়।
দ্বিতীয় দিনের সূচনা হয় বহির্বিশ্বে প্রাণের সম্ভাবনা ও অনুসন্ধান নিয়ে ড. উজ্জ্বল কুমার দেব স্যারের আলোচনার মাধ্যমে। এদিন পিনহোল ক্যামেরা ব্যবহার করে সূর্যের দূরত্ব নির্ণয়, এরাটস্থেনেস পদ্ধতিতে পৃথিবীর ব্যাস নির্ণয় এবং মহাবিশ্বে আমাদের অবস্থান নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাশাপাশি The International Astronomical Union-এর “Big Ideas in Astronomy” বুকলেট বিতরণ, ভিডিও সেশন, অনলাইন অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল গেমস এবং বিভিন্ন হ্যান্ডস-অন কার্যক্রমের ওয়েবসাইট অন্বেষণ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এছাড়াও দ্বিতীয় দিনে স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি “AstroSchool Bangladesh” প্রোগ্রাম আয়োজন করা হয়, যেখানে ৩০-এর অধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী স্যারের আইসব্রেকিং সেশন, বিভিন্ন হ্যান্ডস-অন কার্যক্রম এবং সোলার অবজারভেশনের মাধ্যমে এই অংশের সমাপ্তি ঘটে।
সমগ্র আয়োজনটি শিক্ষকদের পাঠ্যবইভিত্তিক বিষয়গুলোকে হাতে-কলমে উপস্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে বিজ্ঞানকে সহজ ও আকর্ষণীয় করে তোলার পাশাপাশি তাদের মধ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তুলেছে।










